ঘুরে দেখা দুনিয়া
ফোর্বস ম্যাগাজিনের জন্য সারা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ৫০ টি স্থান নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন ভ্রমন বিশেষজ্ঞ লরা বেগলি ব্লুম। ২০১৯ সালে বিগ সেভেন ট্রাভেল ওয়েবসাইট অবলম্বনে ব্লুমের লিখিত এই প্রতিবেদনটি অসংখ্য ভ্রমনপিয়াসী মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভ্রমন মানে শুধু কতগুলো ফোটো তোলাতুলি নয় এরকম মনে করা লোকেদের অনেকেই ব্লুমের তালিকা দেখে নিজ-নিজ বাজেট মোতাবেক বছর ভ্রমন তালিকা প্রস্তুত করেন। ব্লুমের উল্লেখিত স্থানগুলোর উপরে অনলাইন অনুসন্ধান চালিয়ে একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন তৈরি করে জীবনজয়ী টিম। মোট ১০ টি পর্বে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হবে। আজ পড়ুন দ্বিতীয় পর্ব। প্রথম পর্বটি প্রকাশিত হয়েছিল ২১ জুন ২০২৬ তারিখে।
৬। মালদ্বীপ
ভারত মহাসাগরের নীল জলরাশির বুকে ভেসে থাকা অনেকগুলো দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত মালদ্বীপ বিলাসী পর্যটকদের একটি নিয়মিত আকর্ষণ। ক্রিস্টালস্বচ্ছ সাগর, সাদা বালুকাবেলা, মনোহর সূর্যাস্ত, কোরাল রিফ, না গরম, না শীত আবহাওয়া—কোনটা রেখে কোনটা বলবেন! পানির উপরে বানানো বিলাসী বাংলোতে মনমাতানো রাত উপহার দেয় মালদ্বীপ। নির্জনতাপ্রিয়রা চলে যেতে পারবেন বিচ্ছিন্ন কোনো এক দ্বীপে।
পানির নিচের অনিন্দ্যসুন্দর জগৎ মালদ্বীপের বড় আকর্ষণ। স্কুবা ডাইভিং, স্নোরকেলিং করে পর্যটকেরা মালদ্বীপে রঙিন প্রবাল, হাঙর, কচ্ছপ ও ট্রপিক্যাল মাছ দেখেন কাছ থেকে। পৃথিবীর প্রথম সমুদ্রের নিচের রেস্তোরাঁ আইথা এই দেশে অবস্থিত। বাকি থাকে মানুষ। মালদ্বীপের মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের কথা সবাই বলে।
৭. প্যারিস, ফ্রান্স
প্রেম ও শিল্পের শহর ফ্রান্সের প্যারিস, যার পরতে পরতে লুকিয়ে আছে ইতিহাস আর রোমান্সের গল্প। সিন নদীর পাড়ে সবুজের সমারোহের মধ্যে বানানো আইফেল টাওয়ার, মোনালিসাসমৃদ্ধ ল্যুভ মিউজিয়াম, নটর ডেম গির্জার মতো স্থাপনাগুলোর বদৌলতে প্যারিস অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন। আঁকিয়েদের স্বপ্নভূমি মন্টেমাত্রে টিলা, সিন নদীপারের ক্যাফেগুলো, উৎকৃষ্ট খাবার-পানীয়ে ভরা রেস্তোরাঁ—অনুমেয়ভাবেই সার্বক্ষণিকভাবে পর্যটকধন্য। প্যারিসকে পৃথিবীর ফ্যাশন রাজধানীও বলা হয়। এখানে নাকি সকালে একবার, বিকেলে আরেকবার ফ্যাশনের ট্রেন্ড পাল্টায়!
৮. কেপ টাউন, দক্ষিণ আফ্রিকা
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাসের বিস্ময় ও সংস্কৃতির অনন্য মিশ্রণে ভরপুর কেপ টাউন। এই শহরে রয়েছে টেবিল মাউন্টেইন। শীর্ষ-সমতল এই পাহাড় প্রকৃতির অপরূপ এক সৃষ্টি। এর চূড়ায় উঠলে পুরো কেপ টাউন, আটলান্টিক মহাসাগর এবং কেপ উপদ্বীপের চোখধাঁধানো দৃশ্য দেখা যায়। শহর থেকে একটু দূরে কেপ পয়েন্ট গেলে দেখতে পাওয়া যাবে দুই মহাসাগরের মিলনস্থল। এখানে রয়েছে রবেন দ্বীপ, নেলসন ম্যান্ডেলার সংগ্রামের ইতিহাসের সাক্ষী, যা ইতিহাসপ্রেমীদের হৃদয়কে আপ্লুত করবে। এছাড়াও, পেঙ্গুইনের জন্য বিখ্যাত বোল্ডার্স বিচ, শপিং মল, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও বিভিন্ন বিনোদনের জন্য রয়েছে ভিক্টোরিয়া ও আলফ্রেড ওয়াটারফ্রন্ট।
৯. দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত
দুবাই গ্ল্যামার, অ্যাডভেঞ্চার এবং সংস্কৃতির এক আশ্চর্য মিশ্রণ। পাম জুমেইরাহের উপর স্কাই ডাইভিং থেকে শুরু করে বিশ্বের সবচেয়ে গভীর পুলে স্কুবা ডাইভিং—প্রতিটি মুহূর্তই রোমাঞ্চে ভরা। ওল্ড দুবাইয়ের ঐতিহাসিক রাস্তায় ঘুরে দেখুন, আরবীয় চায়ের সুগন্ধ উপভোগ করুন, অথবা ঐতিহ্যবাহী আব্রা বোটে দুবাই ক্রিকে ভ্রমণ করুন। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য রয়েছে মরুভূমিতে মোটা চাকার ডিউন বাগি গাড়ি চালানো, স্যান্ডবোর্ডিং এবং উটের পিঠে চড়ার আয়োজন। চাইলে মরুভূমিতে রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে তারা দেখুন—কে আটকায়?
দুবাইয়ে গিয়ে বিভিন্ন রকমের খাবারের স্বাদ নিন, মিউজিয়াম অফ দ্য ফিউচার ঘুরে দেখুন, অথবা আলসারকাল অ্যাভিনিউতে শিল্পের জগতে ডুব দিন। বুরজ আল আরবের বিলাসিতা, দুবাইয়ের অদূরে হাট্টার পাহাড়ি গ্রামের মুগ্ধতা উপভোগ করুন। হাতে প্রচুর টাকা থাকলে আপনি যাবেন সোনা-হিরে-জহরতের বিপণিগুলোতে।
১০. বোরা বোরা, ফ্রেঞ্চ পলিনেসিয়া
প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যিখানে অবস্থিত ফ্রেঞ্চ পলিনেসিয়ায় কয়েকটি দ্বীপের সমষ্টি হচ্ছে বোরা বোরা। স্বপ্নের মতো একটি জায়গা। নয়নাভিরাম লেগুন বোরা বোরার অন্যতম আকর্ষণ। লেগুনের উপরে বানানো কুঁড়েঘরে পর্যটকেরা স্মরণীয় সময় কাটায়। আপনার জন্য আরও অপেক্ষা করছে পানির নিচের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। কোরাল গার্ডেনে ডাইভিং, ম্যান্টা রে মাছের সঙ্গে সাঁতার, হাঙরকে পাল্লা দিয়ে স্নোরকেলিং—বোরা বোরায় সব আছে।
অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য রয়েছে মাউন্ট ওটেমানু হাইকিং, মাউন্ট পোপোতিতে মোটা চাকার কুয়াড বাইক চালানো, অথবা আসমানি রঙের পানিতে জেট স্কিইং। মাতিরা বিচে রিল্যাক্স করুন, বাইকে চড়ে পুরো দ্বীপ ঘুরে দেখুন, অথবা সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করুন। স্টিং রে মাছের সঙ্গে খেলা, কচ্ছপের অভয়ারণ্য দেখা, বা ‘ব্লাডি মেরি’ রেস্তোরাঁয় স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়া—এসব কেউ মিস করে না। আরও আছে! হেলিকপ্টার রাইডে পুরো দ্বীপের মনোরম দৃশ্য দেখা, লেগুনারিয়ামে স্কুবা ডাইভিং করার মতো সুব্যবস্থা আছে বোরা বোরায়।
দিন শেষে পানির ওপরে অবস্থিত বাংলোতে বসে স্থানীয় পানীয় খেতে খেতে সূর্যাস্ত দেখুন। বিরল ব্ল্যাক পার্ল খুঁজতে যান, কিংবা জুলাই মাসে হেইভা উৎসবে যোগ দিন—বোরা বোরা আপনাকে অসাধারণ স্মৃতি দেবে।